স্বর্ণ-শৈশব

এ কী দাদুন! এত বৃষ্টিতে ভিজছ কেন তুমি?

হাতে তোমার কী?

দাদুর মুখে ভীষণ হাসি স্নান করছে, গান করছে।

কাগজ আর স্বপ্ন বেঁধে 

নাও ভাসছে তার

দূরদেশে সেই অচিন দ্বীপের ঘরে...


ইল্যাটিং বিল্যাটিং সই লো

কীসের খবর পাইলো

রাজামশাই বলে গেছেন

মল্লিকা বালিকা চাইলো…


ও দাদুন! গোল গোল ঘুরে এ তুমি কী করছো?

কী সব বকছো আবোলতাবোল?

মল্লিকা তো ঠাম্মার নাম! ঠাম্মা তো মরে গেছে!


দাদু চেপে ধরলেন ছোট্ট নাতির মুখ

চুপ চুপ! আমি তো রাজা! মল্লিকা আমার রাণী

এক্ষুণি ওর সই ওকে আমার কাছে নিয়ে আসবে

আমরা খেলবো...ছুটবো… ছুটেই যাবো!


নাতির কোমরে হাত। 

দাদু ছুটছে।

আরে দাদুন! আলমারির পিছনে কী করছো এখন?

ও মা দেখে যাও দাদুনের কী যেন হয়েছে!

দাদু এসে নাতির পিঠে জোর ঠেলে দেয়

ধাপ্পা! এই ছুঁয়েছি… তুই চোর।

কানামাছি ভোঁ ভোঁ

যাকে পাবি তাকে ছোঁ...


সাইক্রিয়াটিস্ট এলেন। সাইকোলজিস্ট। এন্যালাইসিস হল, 

মেডিসিনের এক্সপেরিমেন্ট হল।

সপ্তা দুয়েক পরে ভ্রু কুঞ্চিত ডাক্তারবাবু বললেন, এই বয়সে আলঝেইমার হতে পারে কিন্তু এ তো 

তা নয়!


দাদুর হাতে পেন্সিল, খাতায় ট্রেন ছুটছে

কু ঝিকঝিক …

এক পায়ে জুতো

মাঝে মাঝে চিৎকার করে উঠছেন গো...ল!

অন্য পা'খানা লাফিয়ে লাফিয়ে বলছে

চু...কিতকিত কিতকিত…


নাতির চোখে বিস্ময়।

এইসব দাদুন করছে টা কী?

অনলাইন ক্লাস, গেমস বন্ধ হওয়ার জোগাড় তার!

বিরক্ত মা'ও।


বাবার মুখে ঝিলিক দিলো খুশি…

ছেলেকে কোলে তুলে বললেন,


গোগোল! ভেবে কী আর হবে?

এই জাল দুনিয়ায় এসেও

তোর দাদুন ফিরে গেছেন স্বর্ণ শৈশবে।


ইকির মিকির চামচিকি

চামে কাটা মজুমদার

ধেয়ে এলো দামোদর...

-----------------------

SUJATA MISHRA

শ্বেত শুভ্র আলোর দেবী

শ্বেত শুভ্র আলোর দেবী

গেলেন অন্য ঘরে

সুর ছড়ানো দিকবিদিক

বিসর্জনের ঝড়ে।


শেষের সময় শেষের পুজো

শব্দ ছন্দ তানে

দেবী রইলেন মাটির গায়ে

গান গন্ধের টানে।


আজকে যে তার যাবার দিন!

তাই তো গেলেন চলে।

রইল পড়ে বীণা'র তার

আকাশ প্রদীপ জ্বলে।


গান জড়ানো প্রাণ হারানো

ক্লান্ত তো নয় সুর!

মাঘও ওঠে কেঁদে কেঁদে

কাঠামো যাবে দূর!


দ্বেষ আর দেশে ঠেসে আছে

বে-সুর অ-সুর কর্ম

দেবী গেলেন শরীর ছেড়ে

রইল গানের বর্ম।


সরস্বতী গানবতী 

সুরকে ছুঁয়েই থেকো

ও পারের ওই বিষাদ গুলো

গান জড়িয়ে রেখো।

-----------------

SUJATA MISHRA

আ মরি মাতৃভাষা!

বিচারসভায় ঠিক হল, আমাকে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবে।

সময়টা উনিশশো বাহান্ন'র বেশ আগে। ওদের কাছে আমার অপরাধ ছিল অমার্জনীয়! 


আমি লুকিয়ে শিক্ষা হয়েছিলাম। বালিকা বধূর খাতায় ভালোবাসছিলাম…

বৈধব্য নেমে এলো মেয়েটির সিঁথিতে। 


ওরা প্রকাশ্যে বললো, বলেছিলাম পড়াশুনা মেয়েদের পাপ!


জনান্তিকে বললো, মেয়েদের এত ভালোবাসা ছড়ালে ভয় দূর হয়ে যাবে! ওদের শাসন বয়কট করবে পৃথিবী…


আমার জন্য বিচারসভা বসল খুব তাড়াতাড়ি।


বিশাল গর্তের মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি। চারিদিকে উল্লাস। আমার দিকে লক্ষ্য স্থির। কে ছুঁড়বে আমার মুখে, বুকে, চোখে, সাহসে...সরগরম আলোচনা


হঠাৎ মূক ও বধির মানুষটা ছুটে এলো কোত্থেকে! সবার পায়ে ধরলো। বুক চাপড়ে চাপড়ে কাঁদলো। মাথা ঠুকলো…উল্লাস বাড়লো।


আমার হাত ভেঙে গেল। পা, বুক, পাঁজর, কণ্ঠ…


ওরা চলে যাওয়ার পরে সেই গর্তের চারিদিকে আমায় জড়িয়ে রাখলো মূক ও বধির মানুষটা।


তারপর বাহান্ন এলো। মানুষটা তার অশ্রু মুছে আগুন হলো। আগুন থেকে জন্ম নিল সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার…


তাদের ফুসফুসে ফোঁস! চোখে লাভা! বুকে টগবগে রক্ত!


আমি ভাঙা শরীরে হাঁটছিলাম। তোতা পাখির ঠোঁটে গান দিতে হবে! শাপলা তুলে প্রেমের হাতে দিয়ে বলতে হবে, ভালোবাসো...ভালোবাসো...  


গুলি এগিয়ে এলো আমার দিকে। এত সাহস তোর এখনো? এত নরম গায়ে এগোতে চাস? 

মৃত্যুই তোর শ্রেয়! 


গুলি আরো কাছে এলো…কাছে এলো…

আগুন গুলো জমাট বেঁধে ছুটে এলো সামনে।

খবরদার! টগবগে রক্ত আমার সামনে। ওরা গুলি ছুঁড়েই চললো।


ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল রফিক, সালাম...আরো কত শত তেজ!

ভয় পেলো ওরা! আশ্চর্য! সামান্য আমাকে বাঁচাতে

বলিদান! পিছোলো এক পা...দু পা…


ঠিক হলো, আমাকে রাখা হবে আমার স্থানে।


অলস দুপুরে মূক ছেলেটার স্বপ্নের রাজকন্যা বাগানের গাছে দোল খায়…তেঁতুল চোষে।

ছেলেটি চোখ দিয়ে গলগল করে আমায় ডেকে আনে। মেয়েটি হাসে, ভীষণ হাসে। 


স্নান সেরে ছেলেটির মা হাঁড়িতে চাল তোলে। বাপ'টা আগে মাতাল ছিলো, এখন ভালোবাসা শিখেছে। বউয়ের গলায় পুঁতির মালা পরিয়ে দেয় একখানা...বলে, চুমু দেবে?


আমি চুপ করে সে মায়ের আঁচলে লুকিয়ে থাকি তখন। আমার যে সময় সময় নাম বদলে যায়! 

এই এখন যেমন লজ্জা! 


এখন আর গুলি টুলি আসে না। একুশ আসে। 


সারাদিন আমার নাম হয়ে যায়... আ মরি মাতৃভাষা!

------------

SUJATA MISHRA

ভালোবাসা

এক সকালে চোখের পাতায় কুয়াশার দুধ জমল মেয়ের

আলতা ধুয়ে দিল শিশির। 

কলমি, মটর, কড়াইশুটি খুব কাঁদল তার দুঃখে

শুকনো মরিচ রোদ্দুরেও ভিজে স্নান

থামল মেয়ের ছুটন্ত দুই পা…

থামল না এক মা।

সকাল বেলা কোল ছেড়েছে পুত্র তার

শোক ঘিরেছে পাঁজর নীচে। 

পাড়ার চোখে চোখ রেখেছে মা...

পুত্রবধূ অপয়া কেন হবে? ওটা দুর্ঘটনা।

সন্ধে নিবিড় হয়। 

মেয়ের পায়ে মাটি গড়ে মা।

একটু একটু পাঠ…

অল্প অল্প মাটি

গড়তে গড়তে মেয়ের চোখে কুয়াশা যায় সরে।

পায়ের মাটি শক্ত ভীষণ হয়।

হাঁফ ছাড়েন সেই মা

বলেন, যা রে বেটা যা! এবার অরণ্য বোন তুই!

কলমি হাসে। মটর, কড়াইশুটি। 

শুকনো মরিচ সূর্য মাখে সুখে

এগোল সেই একলা মেয়ের নিভন্ত দুই পা

আলতা দিয়ে সাজিয়ে দিল মাটি, পুত্রহারা মা।

রাত্রি হল গভীর। নিঃশব্দ চারিপাশ।

একলা মায়ের দাওয়ায় এসে বসে প্রশ্ন।

মাথা নিচু করে জিজ্ঞেস করে,

তোমার পৃথিবীর নাম কী গো মা? 

কেমন তাকে দেখতে বলো না!

মায়ের হাতে অনেক বাকি কাজ…

একটু একটু সাহস নিয়ে একটা তারা কিংবা

যমুনা দাসী তা নয়ত অনাথ হারু

যদি ছুটতে শেখে…

দৌড় বানাতে বানাতেই মা উত্তর দেন,

আছে আছে! এই বুকেতেই বাসা

নামটা ভারী মিষ্টি! ভালোবাসা।

------------

SUJATA MISHRA

রাই-বীথিকা

রাই--চুপকথা?

বীথিকা--না...প্রশ্রয় পাক।

রাই--কীভাবে?

বীথিকা--ভয় ভেসে যাক…


রাই--আমরা যে ভিন্ন!

বীথিকা--ক্ষতি কী তাতে?

রাই--একটা আকাশ একটাই সূর্য


বীথিকা--হাজার তারা রাতে।


রাই--বুঝছিস না তুই!

এ কি হয়?

বীথিকা--ওই দেখ রাই! পাখিটার ঠোঁটে...

রাই--খড় কুটো নয় ছয়।


বীথিকা--ভাঙতে হবে! ভাঙতে হবে!

বুঝলি আমার প্রাণ?

যা কিছু নতুন, তাই ভিন্ন!

ভেঙে ফেলার গান।


রাই--তারপর?

বীথিকা--তারপর গড়তে হবে ফের।

ওই দেখ পাখিটা ফেলে গেছে...

খড় আছে ঘর বাঁধতে ঢের।


রাই--ভীষণ রকম মেঘ করেছে 

বীথিকা--তুই বৃষ্টি হবি আজ?

আমি পরেছি দেখ না কেমন

পাহাড় হওয়ার সাজ!


রাই--কিন্তু ঠান্ডা লাগার ভয়

বীথিকা--আগুন আছে বুকে

রাই--আরো জড়িয়ে ধর

বীথিকা--কোথায়? এ ভুলচুকে?


রাই--যাহ! মার খাবি বলে দিলাম

ভালোবাসি তো নাকি!

বিথীকা--আয় অন্যরকম সুখে

ডুবে ছুঁয়ে থাকি…


রাই--তুইও মেয়ে, আমিও তাই

তবু বুকের মধ্যে ঢেউ

বীথিকা--সবাই তো হয় রে একই

আলাদা আমরা কেউ কেউ…


রাই--বুক টা দেখি! কী করেছিস?

বিথীকা--বিচ্ছেদের যন্ত্রণা নেই মোটে

দেখ না শুধু তোর বীথিকা

কেমন এবার পুরুষ হয়ে ওঠে!


কাঁদিস কেন? ওরে প্রিয়ে!

শরীর বদল তাই?


রাই-ওসব চাই না আমার

তোকেই জড়াতে চাই…


বীথিকা--আমরা দুজন একই রকম গায়ে

ভিন্ন রকম রঙকে সাজাই, আঁকি 

রাই--লজ্জা করছে! ছাড় বলছি! দুষ্টু!

বিথীকা--তোর কাজলে আমার ঠোঁট রাখি?


রাই--সন্ধে হওয়ার আগে 

বেঁধে নিতে হবে বাড়ি

ভুলচুক নয়, আমরা দুজন

ভালোবাসতে পারি!


বীথিকা--পাড়া লুটাবে হাসির ধুলোয়…


রাই--খুব বুঝেছি! ভয় ভুলেছি। থাক।


বীথিকা--চুপকথা?


রাই--নাহ! আমাদের ঘর। 

প্রশ্রয় পাক।

---------------

SUJATA MISHRA

কোন পথে যাবে গান?

 কোন পথে যাবে গান?


তোমার যে মা তোমায় স্পর্ধার পাঠ শিখিয়েছিল, দুঃসাহস নয়! 


তাকে তুমি তোমার এ দুঃসাহসের জন্য কী জবাব দিয়েছ, শিল্পী? 


অগণিত হৃদয় মুগ্ধ হয়েছিল, মৌমাছির মত ছুটে এসেছিল তোমার কণ্ঠের চারিদিকে...তোমাকে বসিয়েছিল তোমাকে চাই এর আসনে। তোমায় দিয়েছিল বন্ধুতা! তোমার দৃপ্ত স্বরে তপ্ত হয়েছিল তারা! তোমার পাগলা সানাই এ নেশাগ্রস্ত।


জবাব দিয়েছ তাদের, তোমার এ দুঃসাহসের জন্য?


ও গানওলা! ওই যে পাশের বাড়ির মেয়েটা এখনও জানে, যারা সুর সাধে তারা সরস্বতীর বরপুত্র। ...তাদের শুধু ভালোবাসতে হয়। জাতিস্বর হয়ে পরের জন্মে ফিরতে চায় সে! পরের জন্মে তোমার কণ্ঠের পাশে তার 'হৃদয়ক মৃগমদ গীমক হার' রাখতে চায়!


জবাব দিয়েছ তাকে, তোমার এ দুঃসাহসের জন্য?


তোমার গান ছুটছে হৃদয়-দিকে। ধিক্কার ছুটছে বোধে। 

শিল্পী! গানের কাছে নতজানু হও। মাফ চেয়ে নাও মায়ের কাছে। 


জেনে রেখো!

তোমার আমার সবার মায়ের তৃতীয় স্পর্ধার নাম...ঘৃণা! 


বুদ্ধিজীবী হও বা শিল্প সাধক…


মায়েদের ঘৃণা তোমায় একবার ছুঁয়ে দিলে তোমার গান কোন পথে যে হারিয়ে যাবে, বারেবারে জন্মেও, জাতিস্বর হয়েও তা তুমি খুঁজে পাবে না!

---------------

SUJATA MISHRA

লেখাপড়া করে যে...

সরস্বতী নদীর শান্ত স্রোতে মন্ত্র খুলে রাখলেন পুরোহিত।

গুনে গুনে তিনবার ডুব দিয়ে উপবীত দিলেন

বিসর্জন। 

উঠে এলেন ভিজে বস্ত্রে। সূর্যের দিকে তাকিয়ে

বললেন, ক্ষমা করো আমায়!

এক বছর পূর্ণ হল আমার পিতৃত্ব পাটে যাওয়ার…

এক বছর…


নদী থেকে খানিক দূরেই আয়োজন করা হয়েছে

দেবী সরস্বতীর আরাধনা

বাজছে বাদ্য। ঝাঁকে ঝাঁকে মেয়েরা হলুদ রোদ্দুর

হয়ে এসে বসেছে মূর্তির সামনে। 

সমস্ত উপাচার সজ্জিত। 

কেবল পুরুতমশাই কেন যে আসছেন না!


আরে এই তো পুরুত! চলুন চলুন! হাতে খড়ি

বাকি যে কত!

পাড়ার ছোকরার দল ধরে নিয়ে এল পুরোহিতকে।

পুরোহিত কেঁদে পড়লেন...আমি পারব না!

আমি হাতে খড়ি দিতে পারব না!


আকাশ বাণী হল তৎক্ষণাৎ…

শিক্ষা...এই শিক্ষা আনে চেতনা

চেতনা আনে দৃষ্টির স্বচ্ছতা

বন্ধ হয় কানামাছি, লুকোচুরি

বন্ধ হয় ভোল বদল…

বন্ধ হয় বিদ্যা আগে নাকি ভিক্ষে'র তর্ক,

ডামাডোল…

জেগে উঠতে চায় মনুষ্যত্বের পাখনা!

সর্বনাশ! সর্বনাশ! ঘোর সর্বনাশ!

তার চেয়ে অমাবস্যা শ্রেয়।


ছোকরারা অবাক হয়। চোখ তুলে প্রশ্ন করে

তবে শিক্ষার প্রয়োজন নেই? 

হাতে খড়ি হবে না আজ?


আকাশ বাণী পুনরায়, মায়ের পদতলে কে আছে বসে?

হাঁস...হাঁস! ডিম দেয়, সাঁতার কাটে…

হলুদ রোদ্দুরেরা উত্তর দেয়।

আকাশ বাণীতে অট্টহাসি…


পুরোহিত কাঁদতে কাঁদতে বলে, আমার ছেলের

হাতে খড়ি আমিই দিয়েছিলাম।

ও মায়ের বীনা হতে চেয়েছিল!

ওই মূর্তির পায়ের নিচে জমা করেছিল ওর

অংক, ইংরেজি, বাংলা…

আমার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চারণ করেছিল পুষ্পাঞ্জলি


তারপর? তারপর কী হল?

এবার প্রশ্নটা দেবীর সামনে রাখা সমস্ত উপাচারের

ওরাও জানতে চায় দেবীকে তাদের শ্রদ্ধা উৎসর্গ

করার আগে…


ছেলেটা ট্রেনের তলায় মাথা রাখল একদিন। লিখে গেল...লেখাপড়া করে যে/গাড়ি চাপা পড়ে সে।

বিদ্যে আর বুদ্ধি দিয়ে আকাশ বাণীর তরঙ্গের খোঁজ

পেয়েছিল সে…

তাই তাকে সরাতে এ দেশের রাজা সময় নেয় নি বেশি।


ছোকরারা মুখ তোলে আকাশে। 

আকাশ নিশ্চুপ।

ছোকরারা পুরোহিতের অশ্রু মুছিয়ে তাকে বুকে

চেপে ধরে। 

হলুদ রোদ্দুরেরা তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে

গালে কপালে চুমো দেয়


দেবীর পায়ের নিচ থেকে হাঁস উঠে গিয়ে নদীতে নামে

তুলে নিয়ে আসে পুরোহিতের মন্ত্র, পেন্সিল…


রোদ্দুরের রঙ হলুদ সবুজ কমলা লাল হয়ে ওঠে।

প্রজাপতির মতন।


ছোকরারা আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে

শোনো! এ তরঙ্গের নাম আলো!

তোমরা যতই চাও নিভিয়ে দিতে

সূর্য ঠিক উঠবে! গনগনে আগুন হয়ে উঠবে!


প্রজাপতি রোদ্দুরে স্লেট ভিজিয়ে পুরোহিত

পুনরায় হাতে খড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার অজ্ঞানতার…

লেখো অ… জ...জীবন…


মা সরস্বতীর বীণা যেন বেজে উঠল না পুরুতমশাই?

ছোকরারা আনন্দে লাফিয়ে উঠল!

আমরা পারব! আমরা পারবই!

অমাবস্যার সর্বনাশ হতে আমরাই পারব!

হলুদ সর্ষে ফুলের ক্ষেত দুলে দুলে গান বাঁধে

লেখাপড়া করে যে/ আলো আলো হয় সে!

লেখাপড়া করে যে/ আলো আলো হয় সে!

লেখাপড়া করে যে…

----------------

SUJATA MISHRA