Showing posts with label ছড়া. Show all posts
Showing posts with label ছড়া. Show all posts

মায়ে ঝি'য়ে

সেই মেয়েটার গরিব চাঁদ

পথের ধুলায় কাঁদে

মনের মধ্যে ছোট্ট আশা

মা তবু তার বাঁধে…


ওই যে দেখো প্রজাপতি

মাছরাঙা ওই গাছে

ওদের সঙ্গে ধার নিয়ে নাও

রঙ যে ওদের কাছে!


শিমুল পলাশ কৃষ্ণচূড়া

রাত জোনাকির আলো!

দিনেও কত রোদ্দুর যে!

আদর ওতে ঢালো।


পদ্মপাতায় গান করছে

শিশির পুকুর ঘাটে

মায়ে ঝি'য়ে ওদের নিয়ে

বসব রঙের মাঠে।


উঠল খুকু খিলখিলিয়ে

চাঁদও মেশে তাতে

গরিব তো নয় সে এখন আর

রঙের রাজা রাতে!


পথের উপর রথ চড়ছে

দুটি খিদে মুখ,

মায়ের চোখে শ্রাবণ ধারা

মেয়ের স্বপন সুখ…


চাঁদের গায়ে মাছরাঙা রঙ

রোদ জোনাকি মিশে

মায়ে ঝিয়ে রঙ রাখছে

শুকনো দূর্বা শিষে।

____________

SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

ছোট্ট খুকু

আজকে আমি ছোট্ট খুকু

মাটির বুকে থাকি

স্বপ্ন আমার আকাশ ছুঁয়ে

জীবন এঁকে রাখি।


কী ভাবছ পারব না?

হবই আমি বড়

সূর্য হব! শিশির হব

যতই আগলে ধরো!


আজকে আমার ছোট্ট বুকে

রেখেছি আগুন ঢেকে

নদী যেমন হাঁপিয়ে উঠে

বন্যা হতে শেখে।


যদি বলো, আগুন হবি?

ফুল হবি না তুই?

খিলখিলিয়ে উঠব হেসে

সন্ধে বেলায় জুঁই।


ছেলের মত নয়

—---------------

SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA) 

ফিলিং দুঃখু

ভ্যালেন্টাইন বলে কথা!

পেঁচি ছিল সেজে

হাড়ের টক খুলির ঝাল

আঙুল নিল ভেজে


এদিকে আবার হয়েছে কী

গাছের কোটর ফাঁকে

বেম্ভদত্যির নেমন্তন্ন 

শাকচুন্নির ডাকে।


দেখল পেঁচি উঁকি দিয়ে

শাকচুন্নির হাসি

বেম্ভদত্যি বলছে তাকে

বড্ড ভালোবাসি!


পেঁচি কাঁদলো বিরহ কাঁটায়

ভ্যাঁ কেত্তন গাছে

শাকচুন্নি বেম্ভদত্যি

ভ্যালেন্টাইন নাচে।

-–------------------

SUJATA MISHRA

শ্বেত শুভ্র আলোর দেবী

শ্বেত শুভ্র আলোর দেবী

গেলেন অন্য ঘরে

সুর ছড়ানো দিকবিদিক

বিসর্জনের ঝড়ে।


শেষের সময় শেষের পুজো

শব্দ ছন্দ তানে

দেবী রইলেন মাটির গায়ে

গান গন্ধের টানে।


আজকে যে তার যাবার দিন!

তাই তো গেলেন চলে।

রইল পড়ে বীণা'র তার

আকাশ প্রদীপ জ্বলে।


গান জড়ানো প্রাণ হারানো

ক্লান্ত তো নয় সুর!

মাঘও ওঠে কেঁদে কেঁদে

কাঠামো যাবে দূর!


দ্বেষ আর দেশে ঠেসে আছে

বে-সুর অ-সুর কর্ম

দেবী গেলেন শরীর ছেড়ে

রইল গানের বর্ম।


সরস্বতী গানবতী 

সুরকে ছুঁয়েই থেকো

ও পারের ওই বিষাদ গুলো

গান জড়িয়ে রেখো।

-----------------

SUJATA MISHRA

আমিই বিলে

আমি এখন ছোট্ট মানুষ

ধ্যানে বসেছি ধরো

বন্ধ দুচোখ, স্বপ্ন অনেক

মাটিও শক্ত বড়ো।


তুমি বলবে, 'বিলে কোথায়?

নরেন'ও তো নয়!'

তবু, আমার বজ্র মুঠি

একফোঁটা নেই ভয়!


বিবেক আমার গড়বে দেখো

মা যে শেখান রোজ

'মানুষ তুমি! মানুষ থেকেই

মানুষ নিও খোঁজ!'


ধরো, আমিই বিলে আজ।

কালকে নরেন আমি

অযুত হৃদয় গড়ব বুকে

বিবেকানন্দ স্বামী।

-------------------

SUJATA MISHRA

আজগুবি ধাবা

বাবা রে বাবা...মস্ত ধাবা

তার ভিতরে ঘর আর ঘর

জ্বলছে চুলা কনের মাথায়

ঘুমিয়ে আছে ছোট্ট বর।


বাবা রে বাবা... বিয়ের ধাবা

বরের এবার ঘুম ভেঙেছে

শিঙ নেড়ে যেই আসছে ষাঁড়

হুক্কাহুয়া ডাক ছেড়েছে।


বিয়েবাড়ির ভুরি ভোজে

লঙ্কা পেঁয়াজ রসুন আদা

হুতোম প্যাঁচা বরের মামার

পিসের মাসির আপন দাদা।


বর ডাকলে, কই রে হুতোম!

বউটা আমার গেল কই?

আমড়া চুষে বউ বললে,

আমি তো আর কনে নই!


আমি হতে পারি রুই

আচ্ছা তবে হই পুঁটি?

ষাঁড় বললে, ভীষণ মজা!

বিয়ে বাড়ির আজ ছুটি!


বাবা রে বাবা... ফাঁকা ধাবা

মুরগি খোঁটে নরম ঘাস,

ঘোঁতন বরের চোখের জলে

ডুব দিচ্ছে পাতি হাঁস।


কনের চোখেও জলের ঘড়া

গোলদিঘিতে ভরতে যায়…

মস্ত ধাবা একলা বসে

ডিগবাজি আর খাবি খায়।

----------------------

24. 03. 2021


রাজা রাণীর গল্প


এক যে আছে রাজা,                    তার আছে ছয় রাণী

সবার মধ্যে থেকেও তবু                শরৎ অভিমানী!


শিশির হয়ে দুর্বা ভেজায়                শিউলি হয়ে মাটি,

আকাশ ঘিরে মেঘকে সাজায়        রোদও পরিপাটি।


কাশের ঢেউয়ে মন উদাসী            রাণীর ভীষণ শোক,

এমন সময় ঢাকের বাদ্যি               আঁকে মায়ের চোখ!


ঘাসে ঘাসে লুটায় খুশি                   রাণী ভীষণ হাসে,

নির্বিঘ্নে রাজামশাই                        বসেন রাণীর পাশে।

কুয়াশা ঘেরা চিবুক খানি                তুলে ধরেন হাতে,

মেঘ চোবানো চাঁদের মায়া             তখন রাজার ছাতে।


পুজোর গন্ধ শেষের পরে                ক্লান্ত যখন রাণী,

ঠিক তখনই রাজার ঘরে                হেমন্ত অভিমানী!

-----------------

Sujata Mishra