গোধূলি-কিয়া

প্রবল বৃষ্টি শুরু হল হঠাৎ
সঙ্গে ছাতা ও নেই আজ।
সামনের বাড়িটার রোয়াক ফাঁকা
আপাতত থেমে যাওয়াই সমীচীন মনে হল
বৃষ্টি একটু কমলেই না হয় ফেরা যাবে নিজ গৃহে

শুনশান পথ। আমার চুল থেকে বৃষ্টির জল
গড়িয়ে পড়ছে পায়ে
বাতাস এসে স্নায়ুকে ঘুম দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে।
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই প্রবেশ করলাম স্বপ্নে…

ইস! একেবারে ভিজে গেছেন যে!
শরীর খারাপ করবে কিন্তু!

কোথা থেকে এল বাক্য দুটো?
কোন্ অজানা থেকে?
কোন্ অচিন পুর থেকে?
গুহার অতলে লুকিয়ে থাকা প্রাগৈতহাসিক কোনো
সভ্যতা থেকে? 
নাকি কোনো ঝর্ণা? 
অরণ্য হতে পারে কি?
বৃষ্টিতে ওদের আনন্দই তো সবচেয়ে বেশি
তাই কি এ স্বর এত মিষ্টি?
এমন ভেজা স্বপ্নে এত সুখ থাকে? 

একটা গাড়ি চলে গেল সামনের রাস্তায় দাঁড়ানো
জল কেটে কেটে…
স্নায়ু সজাগ হল আমার
স্বপ্নই ছিল বটে! 

সন্ধের একটু পরে কলেজ থেকে ফিরে এল আমার মেয়ে।
আমার গোধূলিতে তখনো সেই স্বপ্নের রেশ
মনে হচ্ছিল সে স্বরের জন্য হাজার বৃষ্টিতে ভিজে
তপস্যা করা যায়
সে স্বরের জন্য লক্ষ মেঘ মাথায় নেওয়া যায়
সে স্বরের জন্য অযুত নিযুত বার স্বপ্ন দেখা যায়
আমার স্নায়ুকে আবার ঘুম পাড়িয়ে দিক বাতাস
আমি আবার ছুটে যাই সেই বাড়ির রোয়াকে…

তুমি নাকি আজ তিথি দের বাড়ির সামনের 
রোয়াকে দাঁড়িয়ে ছিলে বৃষ্টির সময়?
মেয়ের কথায় নড়ে উঠল আমার শরীর।
হ্যাঁ। তুই কী করে জানলি?

তিথির মা তোমাকে ডাকছিল।
তুমি নাকি কোনো সাড়াই দাওনি?
তিথি বলছিল।

আমার মেয়ের বন্ধু তিথি।
ও স্বর তবে তার মায়ের? 
এক আকাশ সুখ যে স্বরে
সেই স্বর আমার মেয়ের চেনা!
সেই স্বর পার্থিব? 

বাবা জানো! তিথির বাবা ওর মাকে প্রাণে মেরে
দিতে চেয়ে অ্যাসিড ছুঁড়েছিল…
ওর মা এক ভয়ঙ্কর মুখ নিয়ে ঘরের কোণে
লুকিয়ে থাকে
তিথি বলে, আমার মাকে আমি এক তুফান খুঁজে দেব একদিন
যার বুকে মাথা রেখে মা ভেসে যেতে পারবে
নিশ্চিন্তে…
তিথি ওর মাকে ভালো সূর্য দেখাতে চায় 
তিথি ওর মাকে ভালো পুরুষ দেখাতে চায়
বন্ধু খুঁজে দিতে চায়

মেয়ে আরো বলছে…
তিথির মা কোনোদিন সুখ পায়নি জীবনে
আর আমি মা পাইনি
ও বাবা! 
চমকে উঠলাম আমি!
আমার কলেজে পড়া মেয়ে আমার গোধূলি বেলায় বসে
এ কী সব বলছে আমায়?

বাবা! তিথির মায়ের নাম বৃষ্টি।

আমি চুপ করে আছি তখনো…
না থাক তার রূপ
স্বর্গীয় সুর যে আছে তার!
কানের ভিতর দিয়ে মর্মে প্রবেশ করা বাক্য দুটি
ইস একেবারে ভিজে গেছেন যে!
শরীর খারাপ করবে কিন্তু!

এবার আমার বিস্মিত কাঁধ ঝাঁকালো আমার মেয়ে

তিথির মা খুব ভালো…
ও বাবা! তুমি বৃষ্টির তুফান হবে গো?
—------------–―
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

সূর্য

"The tree of Liberty must be refreshed from time to time with the Blood of patriots and tyrants! …" Thomas Jefferson

ওরে কে আছিস শত্রু তোরা মৃত্যু নাচন নাচ!
বীরের রক্তে সতেজ সবুজ স্বাধীনতার গাছ।

ওর নাম দিলাম নটরাজ। ক্ষুদিরাম দিলেও হত
কিন্তু মাত্র আঠারোয় আগুন নিভতে দেওয়া চলে না
দেশ তো আমার মা! সেই প্রলয়ের সতীই না হয় হল!

চারিদিকে ভয়ংকর অন্ধকার! 
আধমরা চিৎকার করছে বাঁচতে চাই বাঁচতে চাই বলে
কচুপাতার উপরে ঘর বাঁধতে চেয়ে বারবার পিছল
খেয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন

ওর নাম দিয়েছি শিব। হাতের তালুতে হিসেব
পায়ের পাতায় দৌড় গলায় গম্ভীর নাদ…
কে আছো সঙ্গে? 
পাহাড় উঠছে কেঁপে
সমুদ্র উঠছে ফুলে
দারুণ গতিতে বয়ে চলেছে বাতাস

অন্ধকার গিজগিজ করছে। আগাছার দল 
মাথা চুলকোচ্ছে, দাঁত কিড়মিড় করছে
কোনোখানে আলো নেই! 
সবাই এদিকে ওদিকে ব্যস্ত
টানাটানি, হেঁচকা হেঁচকি ভাঙা চোরা…
কে আছো সঙ্গে?
উত্তর নেই।


ঢং ঢং করে ঘণ্টা পড়ল। গান নেই, মান নেই
শিক্ষা নেই, সত্যি নেই
ভালোর জন্য আলো নেই
বসার জন্য ছায়া নেই
মায়ার কোলে আকাশ নেই
ঘন্টা বাজলেই মুখে লালা ঝরে
বিজ্ঞানী ইউরেকা বলে লাফিয়ে ওঠেন

গাছে গাছে বাসা নেই
মার মুখে ভাষা নেই
বাম চোখ বলে আমি জানি। 
ডান চোখে হাতছানি…এস। আমার আছে!
এক ভ্রু বলে অরাজকতা
অন্য ভ্রুয়ের দুঃখ বিলাস

খাবলে খুবলে খায় ওরা
লুটে পুটে নেয় চেটে
মেঘ নামে বৃষ্টি আসে
রোদ কুড়োতে ভুলেই যে যায় ওরা!

ওর নাম দিয়েছি নটরাজ। নৃত্যে নৃত্যে
ভাঙছে ধ্বংস! আগুনে আগুনে ঝলসে নিচ্ছে
নিজেকেও…
বলছে কত রক্ত চাও! আমার নাও!
ভিজিয়ে দাও ওই স্বাধীনতার বেদি
তারপরে থেমে যাও…
তারপরে থেমে যাও।

এত অন্ধকারে বড় বমি পায়! গা গুলিয়ে ওঠে।
তবু গোগ্রাসে কালো খায় ভবিষ্যত
জিজ্ঞেস করে, আমরা বাঁচবো তো?

ওর নাম ক্ষুদিরাম দিতেও পারতাম
অথবা কর্ণ
কিন্তু আমি ওকে নটরাজই রাখলাম। 
প্রলয়ের পরেও ওকেই চাই আবার প্রবলে
স্বাধীনতার বৃক্ষের নীচে বধ করবে শত্রু
বুকের রক্ত দিয়ে রচনা করবে বোধি ক্ষেত্র 

স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে এসে এ পৃথিবীতে পথ 
বুনতে পারলেই ওর নাম দেব সূর্য।
—------------–-–––
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

মেঘ বৃষ্টি কথা

তোমার বুঝি কষ্ট হচ্ছে খুব? 
জরায়ু চিরে প্রসব করছো আমায়
মুখ যন্ত্রণায় ক্লিষ্ট 
গম্ভীর তোমার স্বর
তবুও আলোর হাসি হাসছ মাগো! 
বলছ, মা হতে গেলে এ টুকু ব্যথা, ব্যথা কীসের?

ঝড় বুঝি এসে গেছে বাইরে? 
খুব ডাকাডাকি করছে তাই না?
ও মা! বজ্র কে এবার খুব বকে দিও তো!
আমার সঙ্গে খেলতে এসে ও কেন আগুন হয়ে পড়ে?
কী বলছ? ওকে বলে দেবে? 
হ্যাঁ মা। ওকে বোলো অন্যায় না করলে কাউকে যেন
ও আঘাত না করে।

ওই তো দূরে গরু বাছুর ঘরে নিয়ে যাচ্ছে চাষীর বউ
ইস! দাও না ছেড়ে আমায়! 
ওদের একসঙ্গে ভিজিয়ে দিই সারা
চাষীর বউয়ের কান্না খানিক লুকিয়ে নিই মা
আমার আদর কোলে!
না না মা! ওই দেখো পিঁপড়ে দের ডিম নিয়ে যাওয়া
শেষ হয়নি এখনো…
আর একটু পরেই না হয় জন্ম দিও আমায়!

ধুলো খুব কাঁদছে সকাল থেকে।
আমায় জড়িয়ে ধরছে আরো
চুমোতে চুমোতে অস্থির করছে! 
ওকে বোঝাতেই পারছি না…
ও বলছে মাটিতে গেলেই আবার বেদনা
যন্ত্রণা…
যেমন করে দুঃখ গায় আগুন
জলের স্রোতে ভেসে
কিন্তু ও না গেলে কোথায় তবে খেলবে চাঁদ
নামবে স্বপ্ন
কেমন করে পা রাখবে ঘাস?
ওকে বলো না মা! বোঝাও না!

তোমার ব্যথা জুড়িয়ে আসছে মা?
আমার যে জন্মের সময় একেবারে কণ্ঠে এইবার!
ঝমঝমিয়ে পড়বো ভুঁয়ে
এ গাল ও ঠোঁট কপাল ছুঁয়ে 

ও মা! মা গো আমার যাওয়ার সময় হল
দাও বিদায়…

তুমি কাঁদছ মা?
এই তো নিয়ম মা গো!
পৃথিবীর ভালো কাঁধে নিয়ে
একরাশ আলো হয়ে আমার প্রাণ
ঢেলে দেব ঘাসে বাসে 
পাহাড়ের কোলে…

কান্না ধুয়ে নিয়ে চলে যাবো সমুদ্রে
অভাব গুলো নদীর বুকে রাখবো গেঁথে
লাউ পাতার সুখ হবো
কুমড়ো শাকে গান
যাই মা এবার?
ওই দেখো ঝড় কেমন বৃষ্টি বৃষ্টি বলে জোরে জোরে ডাকছে! 
মা! আমি গেলাম…

মৃত্যুর পরে আমার ভেসে যাওয়া শরীরের নাম রেখো সৃষ্টি…
—----------–––-
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

লোকটা বড্ড শক্ত!

লোকটা বড্ড শক্ত!

অনেকটা মরুভূমির মত

লোকটার বুকের বাম দিকে হৃৎপিণ্ড রক্ত মাপে-

সব বিন্দু ঘামের জন্য…


শিরা, ধমনী, স্বভাব… বন্য


লোকটা বড় অদ্ভুত! 


একদিন তার ঘরে চাঁদ ছিল

ছাদের উপর রোদ্দুর

হাত বাড়িয়ে পেড়ে নিত স্বপ্ন


একদিন লোকটার বন্ধু ছিল! 

একদিন লোকটার প্রেম ছিল!


লোকটা যেন কেমন! 

হৃৎপিণ্ডের ভিতর যে মন আছে তার

তা যেন সবসময় লুকিয়েই রাখবে!


দিন রাত পরিশ্রম করে লোকটা।

মেরুদণ্ড ঋজু…

চোখের সামনে ধ্বংস দেখলে লোকটা

ক্ষেপে ওঠে! 

নটরাজ হয়ে ওঠে!

আরো আরো ধ্বংস করে দেয় ধ্বংসকে!


লোকটার কী যেন এক হয়েছে আজকাল

অতীত থেকে ছেঁকে আনে বেঁচে থাকার কারণ


কিন্তু লোকটা জানে না …

বিকেল কখনো নিস্তেজ হয় না!


তার পরে যে আলো নেমে আসে

তার নাম গোধূলি।


রাত নামলেই ঝিকিমিকি তারা

জ্যোৎস্নার কথকথা…

স্বপ্নের নাচন


লোকটাকে কেউ একটু বলে দেবে গো,

গভীর রাতেও শিশু ভোর স্বপ্নে আসতে পারে?


শুধু হৃদয়-উঠোনে সেই শিশুর জন্য

একটা খেলাঘর বুনে রাখা 

লোকটার বড় দরকার!

      –

SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

আমি যাই মা ওর কাছে?

মেঘ জড়িয়ে আছে দিন। কদম তলার নিচে
বাঁশি হাতে একলা বসে ওই যে কবি এক
কলোর গায়ে আলো দিচ্ছে এঁকে
কিন্তু দেখো! মাঝির নাওয়ে একলা অবসর
আমি যাই মা ওর কাছে?

ওর কি আর কাজের সময় আছে?
এক পৃথিবী ঐতিহাসিক শোক যে ওর
অভাব সমেত শূন্য হৃদয়
বর্ষা দিয়ে বুনবে মালা, পরাবে চন্দন
ভাসিয়ে দেবে খরা…এমন বনস্পতি ও কোথায় পাবে?

তোমার মেয়ে সঙ্গে তার যাবে?
দেদার বুকে লিখবে নিজের নাম
ইতিহাসকে রাখবে ঢেকে বৃষ্টি দিয়ে
বজ্র দিয়ে ভয় পাইয়ে…
বলবে, আমার কিন্তু আকাশ আছে
মাটির বাড়ি ঘর…

তুই পারবি মা রে? তবে যা মা যা! পৃথিবী আপন কর।
মেঘ জড়িয়ে আছে দিন। লিখছে কবি বর্ষা মঙ্গল
মাঝির এখন সময় শুধু সুর বাইবার
যা মা যা! জন্ম দে মা বৃষ্টি ধোয়া রোদ্দুর!
তোর জন্যই বিদ্যুতে আজ স্নেহ অতুল জাগে

কী যে বলো মাগো! রাঙা হই পূর্ব রাগে!
—-------–----------––
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

আমি নজরুলের মা

'শূণ্যে মহা আকাশে
তুমি মগ্ন লীলা বিলাসে
ভাঙ্গিছ গড়িছ নীতি ক্ষণে ক্ষণে
নিরজনে প্রভু নিরজনে।।'

মাঝি ভা…ই! খাড়াও! খাড়াও মাঝি!
আমাগো লইয়া যাও!
হগ্যলে কয়, শরিল ডুবাইলে মিলাইমু
তাগো সনে…
ছাইড়া যাইও না ভাই
লইয়া যাও আমাগো… 

দুয়ারে ডাক দিয়া কয়েছিল হে'য় 
ফুল শুকাইয়া আইসতাছে
দেখছ?
আমি হে'র মুখখান বুকে লইয়ে কত্ত কান্দিলাম
নাই রে বাছা!
হদই গাঙে শাপলা
হাস্নুহানা উঠোনে
হাইসছে খেইলছে
পোলা!… চাইয়ে দেখ ধুলা মাইপছে তোগো অন্নপূর্ণা!

কী কও মাঝি ভাই?
হে কেডা?
হে আমাগো সোনার সকাল 
আলোর রাইত
স্বপন লয় মাঝি
স্বপন লয়
হেয় আমার প্রাণের প্রিয়
পাগল পোলা

"তুই নাই বলে ওরে উন্মাদ
পাণ্ডুর হল আকাশের চাঁদ,
কেঁদে নদীজল করুণ বিষাদ
ডাকে, ‘আয় ফিরে আয়!’..."

ওই ডাকে, শুনছ নাই?
গাঙ ডাকে
স্রোত ডাকে
তোহার নাও ডাকে

আমারে পৌছাইয়া দে মাঝি!
মাঝখানে যায়ে ঢেউ দিয়া ঘর বানাইমু
আদর দিয়া পায়স
আসন পাতি, পাঙ্খা লইয়া তারে ডাকুম…
'সেই যে গেলি অন্তর খানি দিয়া কবর…'

আমাগো কেশে জটা
আঁচল লুইটা পড়ে 
দেখ মাঝি দেখ হে'রে খুঁইজা খুঁইজা
চক্ষে কেমনে রক্ত ঝরে!

অই অই… বংশী বাইজলো
শুনলা তুমি? শুইনতে পালি?
আমারে ডাইকল
হেয় আমারে আইজ ডাকৈল
'বাঁশি বাজাইয়া লুকালে তুমি কোথায় —'

ফুল গুলি সইত্যই শুকাই গেছে গা
ধূলোয় ধূলোয় হেলাফেলা

'যে ফুল ফোটালে সে ফুল শুকায়ে যায়…'

শরীল ডুবাইলে তগো সনে মিলিব আইজ
জিগাইব অরে, বাছা লোতুন ফুল ফুইটবে কবে?

হগ্যলে কয়, তোমার বাছা ছাইড়া গ্যাছে মূল
তয় আন্ধার বালুতে গড়াগড়ি খায়

মাঝি ভাই…!
খাড়াও! খাড়াও!
মোর পোলা ওই যে হে'রো শিশুটির সনে
মেঘে মেঘে কইরছে খেলা
শূইণ্যে…

ওই শিশুটি প্রলয় ল্যাখে
আলয় রচে
ফুলকে লৈয়ে নিভায় জ্বালায়

'খেলিছো, এ বিশ্ব লয়ে
বিরাট শিশু আনমনে
খেলিছো ..
শূণ্যে মহা আকাশে…'

ওরে যে সৃষ্টি করে
হে' ই মোর প্রাণের ধন

এখনি বৃষ্টি নাইম্বে
আমাগো ভিজায়ে হে'য় কহিবে, এত দেরি ক্যান মা?
মরন রে কভু আমি ডরাই?
দে মিলায়ে দে ভাই
দে মিশায়ে দে

হগ্যলে কয় শরীল মিলাইলে…

আমারে চিনলা না মাঝি?
আমি নজরুলের মা।
—--------------––-
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

মেঘ বৃষ্টির রূপকথা

আর একটু পরেই ঝরে পড়বো আমি! আমার সঙ্গে মিলবে এসে ঝড়, বিদ্যুৎ! বজ্র এসে দুষ্টুমি করে খুব!
ও মা! ওকে একটু বকে দিও তো আজ। ভিজতে চেয়ে বেলা কাটায় যে মাটি, তাকে বুঝি ভয় দেখাতে হয় ওর মত? 

আমার জরায়ু চিরে বেরিয়ে আয় বাছা! জন্ম নিয়ে যা ভেসে যা গাছে গাছে শাখায় শাখায়…মাধবী বিতানে, কবিদের গানে…বর্ষা মঙ্গলে, চাষীদের ধানে…
আচ্ছা। বজ্র এলে আমি তাকে বলে দেব, বিষম না দেখলে সে যেন ঘরের বাইরে আজ না যায়। 

আমায় শক্ত করে ধরে আছে ধূলার আদর। ওর ভারী মনখারাপ, কিছুতেই যেতে চায় না আর বিশ্বে। বলে, ওখানে বড় যাতনা! বড় বেদনা! হিসেব নিকেষ জটিল… 

ওকে বল… ও না গেলে কেমন করে পা রাখবে ঘাস? কেমন করে স্বপ্ন এসে হামাগুড়ি দেবে? রাত্রি বেলা আমার চাঁদ এসে উপুড় হবে তবে কোথায়?

ও মা! মা গো! আমি এবার তবে যাই…

শোন রে মেয়ে আমার! শোন রে বাছা শোন
যেখানে দেখবি আছে যত কান্না ধুয়ে নিয়ে যাস সঙ্গে তাকে…সমুদ্রে মিলিয়ে দিবি। স্নেহ দিবি, তারপরে তার ঘরে ছাত হবি। লাউ, পালং, কুমড়ো পাতায় আগল দিবি… অন্ধকার কপালে রেখে আসবি আলো। পিঁপড়ের ডিমে তুই বাসা হবি, অরণ্যের হাসি। 

তারপরে মৃত হব…

এই তো নিয়ম মা রে! পৃথিবীর ভালো কাঁধে তোল! আলো বাঁধ চোখে… প্রাণ ঢেলে দে পাহাড়ের কোলে, সিন্ধু গঙ্গা জলে…
যা ভেসে যা দূরে…
বৃষ্টি! মা আমার! মৃত্যুর পরে তোর নাম রাখবো সৃষ্টি…
—----------––
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)