সন্ধের গন্ধে যে পূরবী থাকে

সন্ধে বেলা শান্ত মনে চোখ বুজে আছি আমি
পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে সুর
'আই পূরবীকে বাহার সখিরি
রেখাব ধৈবত মধ্যম বিকারত…'

বাতাসে বাতাসে আলোর কণা
তারা খসে পড়ছে একটা দুটো…
আমার শ্বাস পড়ছে শুভেচ্ছায়
এক পৃথিবী সুখ দাও তাকে
সন্ধের গন্ধে যে বন্ধু হয়ে থাকে।

ঢেউ লাগলো হঠাৎ রক্তে
নাচন হৃদয় জুড়ে
গোপন কথাটি কানে উপুড় করে দিল 
মন…
এ আয়োজন স্নেহের
এ উৎসব আলোর!
এ মাটি জন্ম ক্ষণের!
ঘাসে বাসে আনন্দের ছড়াছড়ি তাই

দুহাত তুলে আকাশকে বলি আবার
এক পৃথিবী সুখ দাও তাকে
সন্ধের গন্ধে যে পূরবী থাকে।
—---------––
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

শুকনো গাছ কাটা হবে

শুকনো গাছ কাটা হবে।

সজ্জিত কাঠের উপর শোয়ানো হবে আমার দেহ
আমাকে ঠিক অন্ধকারের মত সুন্দর লাগবে
আমাকে ঠিক ধোঁয়ার মত সুন্দর লাগবে

একটু আগে সূর্য-রশ্মি আমাকে পুড়িয়ে দিচ্ছিল
এখন আমি আগুনের মত স্নিগ্ধ
বাতাসের মত নরম

কেউ কেউ বলবে, শহীদ বলা চলে? 
ভালো ভাবে বাঁচতে চাওয়া পরাজিত সৈনিক
দাবানল মুছিয়ে তাদের শ্বাস দিতে চাওয়া বৃষ্টি
ঝড় থামিয়ে বৃক্ষের কচি শাখায় হাসি দেখতে চাওয়া
রোদ্দুর?

পুড়ে গেছে! ছারখার হয়ে গেছে অরণ্য!
বৃক্ষের কচি শাখা লুটিয়ে পড়েছে মাটিতে
রোদ্দুর ওঠেনি…

আমার সঙ্গে ভাগ্য জড়িয়েছে যে প্রাণ
তার হৃৎপিণ্ড হাহাকার করেছে বারংবার

কেউ কেউ বলবে, শহীদ তো মোটে নয়! 
বরং যা হয়েছে, বেশ।

শ্মশানের শেষ আগুনের আভার মত সুন্দর হবো আমি

আমার কোনো আকাশ নেই, মাটি নেই, বৃষ্টি নেই।

উঠোনের গাছটায় দুটো মাত্র তুলসি পাতা আছে 
আর কী চাই?
                —---
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন

মাননীয় বিধি!

আপনি অলৌকিক কী লৌকিক, সরকারী কী আধা সরকারী তা আমি জানি না। কিন্তু আমি আপনাকে ভীষণ ভাবে খুঁজে পেতে চাই। 

যেদিন আমার দিনমজুর বাবা পায়ের নিচে রক্ত আর বুকের পাঁজরে আশা নিয়ে আমার হাতে তুলে দিয়েছিল বই কেনার টাকা! বলেছিল, মান রাখিস। মস্ত চাকরি পেয়ে মস্ত মানুষ হোস। ঠাকুরদা উঠোনে দাঁড়িয়ে বলেছিল, সবই বিধির বিধান। ভাগ্যে থাকলে নিশ্চয়ই হবে। 
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, বিধি কে? ঠাকুরদা উপরের দিকে মুখ তুলে নমস্কার করে বলেছিল, জন্মের পরেই আমাদের এই চার আঙুল কপালে যিনি ভবিষ্যৎ লিখে দেন তিনিই তো বিধি!
আমি প্রতিবাদ করেছিলাম, তুমি জানো না দাদু ওসব বিধি টিধি হয় না। ভালো করে পড়াশোনা করলে বড় হয়ে ঠিক চাকরি পাবো আমি।

আমি এক দিনমজুরের সন্তান। বয়স ত্রিশ। স্নাতকোত্তরের সঙ্গে সঙ্গে দু একটা শিক্ষণ বিষয়ক ডিগ্রিও আছে। বাবার রক্ত ঘাম আর এক বিঘে জমি এর বদলে ফাইল ভর্তি কাগজ! 

সন্ধেয় বেশ মনোযোগ দিয়ে ছাত্র পড়ানোর সময়েই মায়ের কাশি বাড়ে। ভয় পেয়ে বাবা আমায় ফোন দেন, আমি উদ্ভ্রান্তের মত ছুটে আসি বাড়ি। বাসক পাতা ফুটিয়ে ফুটিয়ে কালো করে ফেলি শসপ্যান। মায়ের কাশি কমে না। কমে যায় আমার সন্ধের মনোযোগ…
ছাত্রের অভিভাবক বলেন, অনেক হয়েছে মাস্টার মশাই, আপনি মায়ের সেবা করুন মন দিয়ে। 

প্রেমিকার ঠোঁটে একদিন ঠোঁট রাখতে চেয়েছিলাম। সে থুতু ফেলে বলেছিল, দু টাকার ফুচকা খাওয়াতে গেলে যে কাঁপে, সে খাবে চুমু! 


রাত্রে বিছানায় শুয়ে ছটফট করি। সাদা কাগজে কপাল আঁকি। তাতে চাকরি লিখি। মায়ের অসুখ সারে, বোনের বিয়ে হয়, ভালো থাকে বাবা। বিয়ে হয়, চুমু হয়, সন্তান…


একটা চোখ বিক্রি করে সংবাদপত্রে নিরুদ্দেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন দিতে এসেছি, বেশ বড়সড় চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন
মাননীয় বিধি! আপনি কোথায়? 
মেঘাসনে নাকি সিংহাসনে? 
আপনি যেখানেই থাকুন যতদূরে
আপনি সরকারী হোন বা আধা
আপনি ফিরে আসুন
আমাদের মত কপালগুলোয় ভবিষ্যৎ লিখতে ভুলে গেছেন আপনি…
আপনি আসুন! 

আপনার রাজ্যে পঁচিশ…ছাব্বিশ…আঠাশ…ত্রিশের
বাবা মায়ের অসুখ হয়, বোন থাকে, 
স্বপ্ন আসে…
খিদে পায়!

হে বিধি! আপনি যেখানেই থাকুন ফিরে আসুন।

আপনি ফিরে এসে আপনার স্বচ্ছ কলমে যোগ্যতার স্বচ্ছ বিচার লিখলে না হয় পাথরের চোখ বানিয়ে নেব একখানা।
ইতি, আপনার ফেরার অপেক্ষায় আমাদের প্রবল খিদে…
—------------–––
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

অরোরা বোরিয়ালিস

আমার মল্লিকার কাঁধ ঝাঁকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম
কী বলছো এসব মলি? 
গোলাপি মাছ, সবুজ ঘাস, আকাশে আকাশে 
আলোর চাষ?
এ শহরের কংক্রিটে কোথায় পেলে তাদের?

দশ বছর চাকরিতে কোনো প্রমোশন নেই
যাকে এক টুকরো দিঘা দেখাতে পারলাম না,
তার হাত ধরে অরোরা দেখাবো কেমন করে?

আমার মল্লিকার চোখে লাল রঙের নিরুত্তাপ দৃষ্টি,
বেগুনি শাড়ি, মেঘ রঙের চুল, বাতাসের মত
মৃদু হাসি ঠোঁটে
তুমি কেমন করে পেলে তাদের, মল্লিকা?

মল্লিকার আঁচল ভর্তি স্নিগ্ধতা
জিভ নড়ে উঠলো, বললো
এখানে সঙ্গম করলে জন্ম নেয় প্রজাপতি

আমার চোখের সামনে দিয়ে পরিযায়ী হাঁস উড়ে গেল 
নীল হ্রদে পা ডুবিয়েছি আমরা দুজন
আকাশে আকাশে ভেসে যাচ্ছে আলো গুলো
বেগুনি সবুজ ছাড়িয়ে লাল 
হৃদয়ের মত লাল

স্বর্গ গুহার দেওয়ালে দেওয়ালে ঘোষণা লিখছে
দেবতারা…
এ আলোয় স্নান করলে গর্ভ সূচিত হয়।
জন্ম নেয় ফুল।

মল্লিকা! আমার তৈলাক্ত মুখ।
ইঁট বালি সুড়কির ওঠাবসা
প্রমোশনহীন নির্জীব মেদ
এ শহরে আমার মল্লিকার চোখে আমি অরোরা
দেখতে পেলাম।

কঠিন অসুখ ছিল মল্লিকার। 
তবু তার মৃত্যু হল না। 

প্রজাপতির দল তার চোখ, মুখ, নাক ছুঁয়ে রইল।
আমি তার অশরীরী আলোয় স্নান করলাম।

এবার প্রজাপতি গুলো আমার চোখ, মুখ, নাক ছুঁয়ে
বসলো
—--------––--
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি!'

'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি!
ধম্মং শরণং গচ্ছামি!
সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি!'

পুত্রহারা মায়ের কানে 
হাত পা বিহীন সরীসৃপ প্রায় ভিক্ষুকের কানে
অত্যাচারিতা স্ত্রীর কানে এ সুর দিলাম আমি
ওদের বুক ভিজে গেল। 
কান্নার প্রাচীর তুলে আমাকে আড়াল করতে করতে
ওরা বললো, এত দুঃখ তুমি নেবে?

মানুষটার প্রবল বৈভব
ঐশর্যের প্রাচুর্য
দাস দাসী 
কিন্তু মানুষটার বড় অসুখ
চিকিৎসক বদ্যি হাকিম অসহায় চোখে দেখছেন
তাঁর যন্ত্রণা
আমি গিয়ে মানুষটার বন্ধ চোখের উপর রাখলাম
মন্ত্র
'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি!'

মানুষটা চিৎকার করে উঠলেন,
এ যন্ত্রণা নিতে পারবে এখনই?

আমি বৃক্ষের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।
বললাম, 
অন্যকে ভালো রাখলে নিজে ভালো থাকা যায়, জানো?
'বয়ধম্মা সঙ্খারা অপ্পমাদেন সম্পাদেথা'
আমার বুদ্ধের শেষ বচন।

আমাকে বিস্মিত করে বৃক্ষ বলে উঠল,
যা কিছু জাগতিক, অবশ্যম্ভাবী বিনাশ
তাই আমি প্রতি মুহূর্তে ভাগ করে নিই শ্বাস।

আমি সে বৃক্ষকে জড়িয়ে ধরলাম।
এস এস প্রাণ! 
আমরা যে কদিন আছি বাকি
জড়াজড়ি করে থাকি।
জড়াজড়ি করে থাকি।

'বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি!
ধম্মং শরণং গচ্ছামি!
সঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি!'
—--------------–––-
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

নিষিদ্ধ জন্ম

আমি কোনোদিন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাইনি
সেন্টিনালী দ্বীপে গিয়েছিলাম।
ওদের ছোঁড়া তীর আমার গায়ে লাগার আগেই
খসে গেল।
ওরা অবাক হলো। আলোচনা হলো।

মেয়েটার খোলা চুল, খোলা বুক
ভয়াল সমুদ্রের মতই গায়ের রঙ
আমি ভয় পাইনি।
আমি কোনোদিন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাইনি
সেন্টিনালী দ্বীপে গিয়েছিলাম।

চোখে শালুক রঙের বিস্ময় লেগে ছিল তার
আমার মৃত্যু হচ্ছিল না
ওরা ইশারা করছিল
কাঁচা মাছ চিবিয়ে খেতে খেতে হাসছিল
মেয়েটার কোমর জড়ানো অজগর
তার নিচে গুহা
মেয়েটার ঠোঁটে একখানা তিল
আমি ঠিক জানি, ঠোঁটে তিল থাকলে
প্রেমজ বিবাহ অবধারিত
মেয়েটা দুদিকে ঘাড় নাড়লো।
হৃদয় পড়ে ফেললো নাকি?

ওরা আমার পোশাক খুলে ফেললো
শুঁকে নিল মাথা থেকে পা পর্যন্ত
মৃত্যু কেন হলো না, এ বিষয়ে আশ্চর্য হয়ে
ওদের গবেষক ডেকে নিয়ে এলো।
কী সব বলাবলি করার পরে সবাই চলে গেল।

খেজুর কাঁটা দিয়ে ঘেরা আমার কারাগারে
মেয়েটা এলো চুপিচুপি
হাত বাড়িয়ে ইশারায় ইশারায় কথা বুনলো
চলে যেতে বললো
আমি বুঝলাম।
আমি নিষিদ্ধ পল্লীতে কখনো যাইনি
কিন্তু নিষিদ্ধ দ্বীপের আমি এ মায়া কাটাতে পারলাম না।

আমার হারিয়ে ফেলা বন্ধুরা দ্বীপের আশেপাশে
আমায় খুঁজতে বেরিয়েছে
আমাকে ডাকছে
আমার দিকে ফিরে যাওয়ার উপায় ছুঁড়ে দিচ্ছে
আমি খেজুর কাঁটার ভিতরে উন্মুক্ত মেয়েটার
হৃদয় খুঁজে চলেছি
বিষ খাওয়াবে আমায়
তিন রকম বৃক্ষের শিকড় বেঁটে সন্ধের সময়
বালির নীচে চাপা দেবে আমার শরীর
বুঝছি আমি, কিন্তু শুনছি না

তুমি জানো অলোকা, ঠোঁটে তিল থাকলে
প্রেমে বিয়ে হয়?
তোমায় একটা আকাশী রঙের শাড়ি কিনে দেব
সমুদ্রে এসে মিশবে আকাশ
তোমার চুলে দেব জুঁই
তোমার জন্য গান বাঁধবো

মেয়েটা আমার মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে
তাকিয়ে রইল।
তারপর…
আমায় বিষ খাওয়ানো হল।

তারপর বালির নিচে টানতে টানতে নিয়ে গেল আমার শরীর
আমি ঘুমানোর আগে বিড়বিড় করলাম
অলোকা, তোমার গুহার দেওয়ালে আমি সভ্যতা
আঁকবো।
মেয়ে হলে নাম রাখবো বৃষ্টি

আমি কোনদিন নিষিদ্ধ পল্লীতে যাইনি
আমি সেন্টিনালী দ্বীপে গিয়েছিলাম।
আমার বন্ধুরা আমায় না পেয়ে ফিরে গেছে
আমার ঘুমন্ত চোখ 
নীল শরীর
নাক দিয়ে বেরিয়ে আসছে রক্ত
শ্বাসে আটকে যাচ্ছে বালি

হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল আমার
মেয়েটার উন্মুক্ত বুক থেকে মাতৃত্ব গড়িয়ে পড়ছে আমার মুখে
আমার পাশে শুয়ে আমার আলোকা
এক নিষিদ্ধ দ্বীপে আমার নতুন জন্ম দিচ্ছে
তার স্তনের চারপাশে থোকা থোকা জুঁই
গুহার দেওয়ালে আঁকা স্নেহ।

আমি বেঁচে উঠছি
আমার ঠোঁটে তিল 
গায়ের রঙ সমুদ্র
সারা শরীর উন্মুক্ত…

ফিরে আসার পরে আমি নিষিদ্ধ পল্লী গেছি বহুবার,
কিন্তু কোনোদিন সেন্টিনালী খুঁজে পাইনি।
—------------––
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)

আমরা তোমার ছায়ায় মায়ায় বাঁচি, মা!

আমরা তোমার ছায়ায় মায়ায় বাঁচি, মা!

তোমায় দেখে দেখেই শিখেছি কীভাবে না খেয়ে
মাটি কামড়ে পড়ে থেকে ছিনিয়ে নিতে হয় 
অধিকার…

খিদেয় কুঁকড়ে গেছি!
গাল গেছে ভেঙে
কিন্তু চিবুক দৃঢ়

ঠিক সে মুহূর্তে তুমি এসে দাঁড়ালে পাশে
বললে, বাছা আমার! আমি আছি তো!

মমতা ভরা কণ্ঠে যিনি তুমি আমাদের কাঁধে হাত রাখলে
বললে, তোমরা এবার খাও
আমি তো মমতাময়ী! তোমাদের জন্যও…
নিজ বাসভবনে বসে তুমি প্রতিশ্রুত হলে,
চিন্তা কোরো না আমি তো আছি
এত স্নেহ যার! এত আশ্বাস
তিনি নিশ্চয়ই কুমাতা হতে পারেন না!

আমার ঘরে আমার গর্ভধারিণীর বড় অসুখ
বয়স্ক বাবা, ভাই বোনের লেখাপড়া…
আর আমার যোগ্যতা
যে নিজের মায়ের মুখে অন্নের সংস্থান করতে পারে
না, সে কী করে দেশ ভালোবাসবে 
হে মমতাময়ী?

তুমি বারবার আমায় কথা দিয়েছ
বারবার বলেছ, চাকরি তোমরা পাবেই
বলেছ, আমরা আছি তো কেবল ভোট টা হয়ে যাক…

তারপর…তারপর তোমার লোকেরা আমায় ধরে কারাগারে পুরেছে
আমায় শাসন করেছে
তর্জনী তুলে বলেছে, ওই যে চাকরিপ্রার্থী
ওরা সন্ত্রাসবাদী! 
ওরা আতংকবাদী!
আমাদের ভুলে
গেলে তুমিও…
তুমিও আমাদের ভুলে গেলে মা!
আমরা এখনো পথের ধুলোয় মিশে আছি
আমরা এখনো রোদ বৃষ্টি যন্ত্রণায় ভিজে আছি
আমার অসুস্থ মা এখনো কান্নার কাঁথা বুনছে

বলো তো তুমি কী করে তবে আমার যশোদা মা হবে?
তোমার শিকড় শক্ত করে রাখার মাটি
আমি কী করে হবো তবে?

আজ শুধু এইটুকু জেনে রেখো তুমি
তুমি যতই সন্ততি ভুলে যাও, যতই মায়া ভুলে যাও
আমার গর্ভধারিণী আর আমার বাবার দীর্ঘশ্বাসে
তোমার পথ হবে পিচ্ছিল

আর আমি তোমায় বারবার মনে করিয়ে দিতে দিতে
যদি একবার প্রবল স্পর্ধা হয়ে উঠি?
যদি একবার বারুদ হয়ে উঠি?

আমরা কুপুত্র হয়ে ওঠার আগেই
তুমি আমাদের সুমাতা হয়ে উঠতে পারো নিশ্চয়ই!
       —
SUJAN MITHI (SUJATA MISHRA)